516 

মুসলিম খান, লন্ডনঃ ১৯ জুলাই সোমবার বিকাল ৫ টা থেকে ৭ পর্যন্ত লন্ডনে বৈধ কাগজপত্রবিহীনদের বৈধতার দাবীতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
যেহেতু ১৯ জুলাই থেকে কোভিড সংক্রান্ত বিধি নিষেধ উঠে যাচ্ছে এবং status now সহ বড় বড় সংগঠন এই বিক্ষোভের সমর্থন করছে তাই এতে বিপুল জনসমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে , লন্ডন ও আশেপাশে যারা আছে তাদের মধ্যে যাদের পক্ষে সম্ভব তাদের বিক্ষোভে সমাবেশে অংশ নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা Help The Helpless নামক একটি সংগঠন ।

ব্রিটেন বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের বৈধতার দাবিতে করা ইপিটিশনটিতে ১ লক্ষ সাইন সম্পূর্ণ হওয়ার কারণে ১৯ জুলাই পার্লামেন্টে আলোচনা হবে
https://petition.parliament.uk/petitions/567681
এই আলোচনাকে সফল করার জন্যই এই সমাবেশের আয়োজন ।

সম্প্রতি আমেরিকায় জো বাইডেন নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহন করেছেন ক্ষমতা গ্রহনের পরপরই তিনি যেই পদক্ষেপগুলি নিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রায় ১১ মিলিয়ন বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের বৈধতাকরনের প্রক্রিয়া , এই প্রক্রিয়া খুব শীঘ্রই বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে , ব্রিটেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও ২০০৮ সাল থেকে ব্রিটেনে যারা দীর্ঘ দিন ধরে বৈধ কাগজপত্রহীন আছে তাদের বৈধতাকরনের পক্ষে কিন্তু তার ক্ষমতা গ্রহণের পর ব্রেক্সিট ও পরবর্তীতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপের কারনে তা এখনো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি , তাই আশা করা যাচ্ছে ব্রিটেনও শীঘ্রই আমেরিকার নীতি অনুসরণ করবে।

ব্রিটেনের দীর্ঘদিন বসবাসকারী বৈধ কাগজপত্রহীন লক্ষ লক্ষ অভিবাসীরা করোনা ভাইরাসের এই দুঃসময়ে অপেক্ষা প্রহর গুনছেন কবে তাদের বৈধকরনের বিশেষ পরিকল্পনা আসবে কারন ক্ষমতায় এখন তাদের পক্ষে কথা বলা প্রধানমন্ত্রী যিনি প্রায় দীর্ঘ একযুগ ধরে এই দীর্ঘ দিন কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের বৈধকরনের কথা বলে আসছেন

২০০৮ সালে প্রথমে তিনি দীর্ঘদিনের বৈধ কাগজপত্রহীনদের বৈধতা দেয়ার দাবীটি করেছিলেন , ২০০৮ সালে লন্ডন মেয়র নির্বাচনের আগে চ্যারিটি সংগঠন সিটিজেনের একটি অনুষ্ঠানে , ২০১৩ সালে এলবিসির অনুষ্ঠানে , ২০১৬ সালের ১৯শে জুন ব্রেক্সিটের ভোটাভুটির ঠিকআগে তিনি একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যার প্রভাব ব্রেক্সিটের ভোটাভুটিতে গুরুত্বপূর্ণভূমিকা রেখেছে , প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি এই সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের কথা ভুলে যাননি তাই প্রধানমন্ত্রী হয়ে সংসদে প্রথম দিনেই ২০১৯ সালের ২৫ শে জুলাই রুপা হক এমপির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দীর্ঘদিন কাগজপত্রবিহীন এইসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের বৈধতা দেয়ার পরিকল্পনা সরকারের আছে বলে
জানান । অতি সম্প্রতি তিনি তার অবস্থান আবার পরিষ্কার করেছেন https://www.bloomberg.com/news/articles/2021-03-18/johnson-backs-amnesty-for-well-behaved-illegal-migrants-in-u-k
তাই সবাই এখন তার প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চায়।

ব্রিটেনে বৈধকাগজপত্রবিহীনদের বৈধতাকরনের দাবীতে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাইন চলছে , ২০০৮ সালের ২০শে এপ্রিল এই দাবীতে প্রথম লন্ডনের ট্রাফলগর স্কোয়ারে এক বিরাট জনসমাবেশ হয়েছিল পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে এমপিদের সাথে এই দাবীতে যোগাযোগ করা হচ্ছে । ২০১৮ সালে বিসিয়ের নেতৃত্বে হাউস অফ কমেন্সের সামনে বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষ করে করোনা ভাইরাসের এই মহামারীর সময় কয়েকশত লোকাল এমপিদের তাদের লোকাল জনগণের মাধ্যমে বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের বৈধতাকরণের সহায়তা করার অনুরোধ করে ইমেইল করা হয়েছে এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে ইতিমধ্যে অনেক এমপি এই ইস্যুতে একমত পোষন করে সহায়তা করছেন যা ধারাবাহিক ক্যাম্পেইনের সফলতার ফসল।

ব্রিটেনে দীর্ঘদিন বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীরা এখন এই দুর্যোগের মুহুর্তে অপেক্ষার প্রহর গুনছে তাদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনার। এটাই সঠিক সময় তাদের বৈধকরনের কারন এদের বৈধকরন করা হলে এরা ব্রিটেনের অর্থনীতিতে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারব।

ব্রিটেনে বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের বৈধতাকরন করলে সরকারের কি লাভ হবে এবং তাদের বৈধতাকরন না করার কারনে সরকারের কি ক্ষতি হচ্ছে নিম্নে তার বিবরন দেয়া হলো :

দীর্ঘদিনের বৈধ কাগজপত্র হীন অভিবাসীদের বৈধতা দিলে সরকারের লাভ সমূহ :

১, বৈধ কাগজপত্রহীনদের বৈধতাকরনের আওতার নিয়ে আসলে প্রথমেই হোম অফিস ফী বাবদ বিপুল অর্থ আয় করতে পারবে ।

২, NHS সার্চ চার্জ হিসেবে বিপুল অর্থ সরকারী স্বাস্থ খাত আয় করবে ।

৩, সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে সরকারি রাজস্ব খাত এই খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন বাড়বে ।

৪, এই অভিবাসীরা দীর্ঘদিন ব্রিটেন থাকার কারনে তারা প্রায় সবাই বিভিন্ন সেক্টরে দক্ষ তাই সুযোগ পেলে তারা তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ব্রিটেনে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে ।

বৈধ কাগজপত্রহীনদের বৈধতা না দেয়ায় সরকারের ক্ষতি সমূহ :

১, বৈধ কাগজপত্রহীনদের পিছনে ইম্মিগ্রেশন রেইড বা তাদের ধরার জন্য যে বাহিনী রয়েছে তাদের জন্য সরকারকে প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে যা দেশের জনগনকে ট্যাক্সের অর্থ থেকে পরিশোধ করতে হচ্ছে ।

২, এই সমস্ত অভিবাসীদের রাখার জন্য বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টার রয়েছে যার ব্যয় বাবদ সরকার কে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে । বৈধ কাগজপত্রহীনদের বৈধতা দেয়া হলে সরকারের এই বিপুল পরিমান অর্থ সাশ্রয় হবে ।

তাই উপরোক্ত বিষয়গুলি বিবেচনা করে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্রিটেনে বসবাসকারী বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসী যাদের কোন খারাপ রেকর্ড নেই তাদের অতি দ্রুত বৈধতা দেয়া এখন সময়ের দাবী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *