166 

মুসলিম খান, লন্ডনঃ  করোনাভাইরাসের ধকল সামলে আগামী বছরই ঘুরে দাঁড়াতে পারে বিশ্বের পর্যটন শিল্প। এমনকি ২০২১ সালেই করোনার আগের অবস্থা অর্থাৎ ২০১৯ সালের চেয়ে ১.৫ শতাংশ বাড়তে পারে এইখাতের পরিসর।

সম্প্রতি এমন আশার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম ফোরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান বুলুট বাগচি। তিনি বলেন, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলা ও ২০০৩ সালে এশিয়ায় সার্স ভাইরাসের কারণে পর্যটন শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছিল। তবে, তা থেকে আবার খুব দ্রুতই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল এই খাতটি।

তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী বছরের মে মাস থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করবে বিশ্ব পর্যটন খাত। তবে, সব ক্ষতি পুষিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে ২০২৪ সাল লেগে যাবে। করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বিশ্বব্যাপী লকডাউনের কারণে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে তা আবার আরও বড় পরিসরে আসুক তা চান না বুলুট বাগচি।
সত্যি বলতে কি চলতি বছর প্রায় শতভাগই (৯৮) সংকুচিত হয়ে পড়েছে পর্যটন খাত। তবে, আগামী দু’এক মাসের মধ্যেই এই বদ্ধ অবস্থা থেকে মানসিক প্রশান্তির এই খাতটি বের হতে শুরু করবে। তবে, করোনার বিশাল ধাক্কায় এই খাত সংশ্লিষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে পড়ায় তারা আর আগামীতে সেভাবে সেবা দিতে পারবে না বলেও জানান তিনি।
বাগচি বলেন, চূড়ান্তভাবে করোনার টীকা অনুমোদন পেলেই মানুষ ঘুরতে বেড়িয়ে পড়বে। তবে, করোনার সংক্রমণ রোধে সাবধানতার কারণে পরিচ্ছন্নতা ও খাবার পরিবেশনে বেশ পরিবর্তন আসবে এই খাতে।
তিনি জানান, বর্তমানে যারা সীমিত পরিসরে ঘুরতে বের হচ্ছেন তারাও আগেই খোঁজ-খবর নিচ্ছেন আশপাশে ভাল মতো হাসপাতাল রয়েছে কি না। এক্ষেত্রে তুরস্ক সরকারের নগর হাসপাতালের উদ্যোগ পর্যটন খাতের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রভাব ফেলেছে।
২০২১ সালেই আবার মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে মিটিং করবে, সম্মেলনে অংশ নিবে এবং বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক সব প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সংকটকালীন এই অনলাইনের ওপর নির্ভরশীলতা স্থায়ী কোন সমাধান না।
বিশ্ব পর্যটন ভিত্তিক এই ফোরামটির বর্তমান পরিচালনায় রয়েছেন এর সাবেক ২০ নেতা, ৬০ জন পর্যটন মন্ত্রী ও বিভিন্ন দেশের পর্যটন সংশ্লিষ্ট শতাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *