158 

মুসলিম খান, লন্ডন:  ফুটবল গোয়িং রোম। বৃথা গেল ওয়েম্বলির ৬০ হাজার মানুষের প্রার্থনা। ফের একবার ব্যর্থতার আগুনে পুড়লো ইংলিশরা। ইউরোর শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে টাইব্রেকারের নাটকীয়তায় ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালি।

ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ। ইতালির বিপক্ষে ইউরোর ফাইনাল। ইংলিশদের উৎসাহ দিতে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক। এমন টানটান উত্তেজনায় ম্যাচের শুরুতেই হোঁচট খেয়ে বসে ইতালি।

ম্যাচের দুই মিনিটের মধ্যেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। ইউরোর ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম গোলটি করলেন লুক শ। কর্নার থেকে ভেসে আসা বল ক্লিয়ারই করা নয় শুধু নিজেদের নিয়ন্ত্রণেও ধরে রাখে ইংল্যান্ড। উঠে যায় কাউন্টার অ্যাটাকে। ইতালির বক্সের ডান পাশ থেকে বাম পাশে লম্বা পাস দেন কিয়েরান ট্রিপিয়ার। দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসা লুক শ ডান পায়ের দুর্দান্ত এক শট নেন তাতে। মুহূর্তেই বলটি জড়িয়ে গেলো ইতালির জালে।

গোল করে রেকর্ডের পাতায় নাম লেখান লুক শ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটাই ছিল তার প্রথম গোল। ইতালির বিপক্ষে ম্যাচের ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের মাথায় গোলটি করেন লুক। তার গোলটিই এখন ইউরোর ফাইনালে করা সবচেয়ে দ্রুততম গোল। এর আগে ১৯৬৪ সালে পেরেদা ৬ মিনিটের মাথায় গোল করেছিলেন।

ম্যাচের ৮মিনিটে সুযোগ পায় ইতালি। বক্সের বাইরে থেকে লরেঞ্জো ইনসিগনের ফ্রি কিক। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে সেই যাত্রায় রক্ষা পায় ইংলিশরা। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে ইংল্যান্ডের অভিমুখে আক্রমণে যান চিয়েসা। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। তা লক্ষ্যে ছিল না। তার নিচু ড্রাইভ ডানদিকের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ব্যর্থ হয়েছে ইতালির আরেক প্রচেষ্টা। লিওনার্দো বোনুচ্চির বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ডান পায়ের শট ক্রসবার থেকে অনেক উঁচুতে মৃ ছিল।

প্রথমার্ধে ম্যাচের ৬১ ভাগ সময় বল দখলে রাখে ইতালি। কিন্তু কিছুতেই হ্যারি কেইনদের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। শুরুর শটেই গোল পেয়ে যাওয়ায় প্রথমার্ধে রক্ষণে জোর দেয় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে তেমন আক্রমণে যায়নি গ্যারেথ সাউথগ্যাটের দল।

ম্যাচ ঘড়ির ২ মিনিটে ইংল্যান্ড প্রথম গোল করে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের চমকে দেয়। ট্রিপিয়েরের ক্রসে বক্সে ঢুকে লুক শ বা পায়ের জোরালো ভলিতে গোলকিপার দোনারুম্মাকে পরাস্ত করেন। বল পোস্ট ঘেঁষে জাল কাঁপায়। ইউরোর ফাইনালের ইতিহাসে এটাই দ্রুত সময়ে গোল হলো। এর আগে স্পেন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ম্যাচে প্রথম গোল হয়েছিল, ৫ মিনিটে।

হঠাৎ এমন গোলে পিছিয়ে পড়ে ইতালি শোধ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু স্বাগতিকদের গোলকিপার পিকফোর্ডকে বড় পরীক্ষায় সেভাবে ফেলতে পারেনি। ৮ মিনিটে ইনসিনিয়ের ফ্রি-কিক ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।৩৫ মিনিটে চিয়েসার শট দূরের পোস্ট দিয়ে গেলে হতাশই হতে হয়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তাদের আরও একটি প্রচেষ্টা ইংল্যান্ডের রক্ষণে বাধা পেলে আর গোল পাওয়া হয়নি। প্রথমার্ধে পিছিয়েই থাকতে হয় আজ্জুরিদের।

ড্রেসিংরুম থেকে ফিরে এসে ইংল্যান্ডকে প্রায় কোনঠাসা করে ফেলে ইতালি। একের পর এক আক্রমণ করে তটস্থ রেখেছে। গোল শোধ দেওয়া তাদের সময়ের ব্যাপার ছিল। ইনসিনিয়ে তো দুটো সুযোগ হারান। ৫০ মিনিটে নেওয়া ফ্রি-কিকটি ক্রস বারের বাইরে দিয়ে যায়। ৭ মিনিট পর নাপোলির এই ফরোয়ার্ডের শট গোলপিকার পিকফোর্ড প্রতিহত করেন। ৬২ মিনিটে চিয়েসার শট গোলকিপার ঝাপিয়ে পড়ে রুখে দিয়ে দলকে ম্যাচে রাখেন।

৬৭ মিনিটে অবশ্য ইংল্যান্ডের সব প্রতিরোধ ভেঙে যায়।ইনসিনিয়ের কর্নারে ভেরাত্তির হেড সাইড বারে লেগে ফিরে আসে।ফিরতি বলে পোস্টের সামনে থাকা লিওনার্দো বোনুচ্চি লক্ষ্যভেদ করতে ভুল করেননি। গোলকিপার পিকফোর্ড চেষ্টা করেও দলকে গোল খাওয়া থেকে রুখতে পারেননি।

৭৩ মিনিটে এমারসনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি। এই অর্ধের শেষ দিকে এসে ইংল্যান্ড পাল্টা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সফল হতে পারেনি। অধিনায়ক হ্যারি কেইন ছিলেন অনেকটাই নিজের ছায়া হয়েছে। রহিম স্টার্লিং একাধিকবার বক্সে ঢুকে কিছু একটা করার চেষ্টা করেছেন। তবে তাকে হতাশ করেছেন ইতালির ডিফেন্ডাররা।

ইউরোর ইতিহাসে ১৯৭৬ সালের পর এটাই প্রথম ফাইনালে পেনালল্টি শুট আউট। সেবার চেক রিপাবলিকের সঙ্গে পশ্চিম জার্মানির ম্যাচটা টাইব্রেকারে সমাধান হয়েছিল। ইতালি গোলকিপার ডোনারুমা ২টি শট ঠেকান আর র‍্যাশফোর্ডের শট লাগে বারে।

টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলে নেয় ইতালি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *