51 

ডেস্ক নিউজ: ইউরোপের ব্লু কার্ড দিয়ে অতি সহজেই তৃতীয় দেশের নাগরিকরা ইউরোপে আসার এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ লাভ করতে পারেন। সংশোধিত এ ব্লু কার্ড স্কিমটি আগের চেয়ে অনেক সহজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় সংসদ ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। চুক্তিতে ইউরোপে দক্ষ কর্মীদের আকর্ষণের জন্য আবেদনের শর্ত শিথিল করা হয়েছে এবং কাজের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত দেশে যাতে সহজেই স্থানান্তর হতে পারেন তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ইউরোপের ব্লু কার্ড স্কিম কী?
ব্লু কার্ড ইইউ’র একটি স্কিম, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে কাজ করতে আগ্রহী তৃতীয় দেশের দক্ষ নাগরিকরা অতি সহজেই ইউরোপে আসতে পারেন, কাজ করতে পারেন এবং পরে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারেন। এর মাধ্যমে তারা ইউরোপের বিভিন্ন সুবিধা ও নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। ব্লু কার্ডের জন্য তৃতীয় দেশের নাগরিকদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক কিংবা তার সমমান ডিগ্রি থাকলে আবেদনের যোগ্য হবেন।

এ ব্লু কার্ডে আবেদন করতে হলে কি লাগবে?
১. ইউরোপের কোনো প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি থেকে কাজের প্রস্তাবের চিঠি থাকতে হবে।
২. বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন তার প্রমাণ দিতে হবে।
৩. কাজের প্রস্তাবে উচ্চ বেতন উল্লেখ থাকতে হবে। যদিও সংশোধিত চুক্তিতে বার্ষিক বেতন ১ থেকে ১ দশমিক ৬ ভাগ হ্রাস করার কথা উল্লেখ আছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বার্ষিক বেতন দেখাতে হবে। শুধুমাত্র ইউনিয়নভুক্ত দেশ ডেনমার্ক ছাড়া সকল দেশে এ ব্লু কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়।

নতুন এ চুক্তিতে কি পরিবর্তন আসছে?
১. বার্ষিক বেতন ১ থেকে ১ দশমিক ৬ ভাগ হ্রাস করা হবে এবং কাজের চুক্তি সর্বনিম্ন ছয় মাস করা হবে। যাতে অতি সহজেই অধিক সংখ্যক লোক আবেদন করতে পারেন।
২. কিছু নির্দিষ্ট সেক্টরে উচ্চ শিক্ষার পাশাপাশি পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকলে আবেদনকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। যেমন : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত।
৩. ব্লু কার্ডধারীরা যদি কাজ কিংবা পজিশন পরিবর্তন করতে চান তাহলে প্রথম ১২ মাস পর একটি লেবার টেস্ট দিয়ে তা পরিবর্তন করতে পারবেন এবং যে দেশে আসছেন ওই দেশের ভিসা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে অন্য সদস্য রাষ্ট্রে স্থানান্তর হতে পারবেন।
৪. ব্লু কার্ডধারীরা পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের নিয়ে আসতে পারবেন।

ইউরোপীয় ওয়ে অফ লাইফ ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্গারাইটিস শিনাস বলেন, এ চুক্তি ইইউকে একটি আধুনিক আইনি মাইগ্রেশন স্কিম বলে অভিহিত করেছেন, যা দক্ষতার ঘাটতি পূরণে সাহায্য করবে এবং উচ্চ দক্ষ পেশাদারদেরকে আমাদের কর্মশক্তিতে যোগদানে সহজ করবে। ইইউ ব্লু কার্ড অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে, শ্রমবাজারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে যাতে ইইউ এ মহামারীর পরে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনার ইলভা জোহানসন বলেন, ‘অভিবাসী কর্মীরা ইইউর অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এবং আমাদেরকে তৃতীয় দেশ থেকে থেকে বৈধ উপায়ে আরো বেশি দক্ষ শ্রমিক আনার কৌশল খুঁজতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *