132 

মুসলিম খান, লন্ডন:  প্রায় ৭০ বছর ধরে চলা নানা বাধা-বিপত্তির মোকাবেলা করে ঐতিহাসিক তাকসিম স্কয়ারে নির্মিত মসজিদটি উদ্বোধন করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। এর মাধ্যমে এরদোগানের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন অবশেষে পূর্ণ হলো এবং সেক্যুলারবাদীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ে ইসলামপন্থীরা জয়ী হলো। তাকসিম স্কয়ার এলাকাটি সেক্যুলারদের বুদ্ধিভিত্তিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান এ মসজিদটির প্রতিষ্ঠার সময়ের বিভিন্ন সংগ্রামের কথা সংক্ষেপে বর্ণনা করেন। তিনি দুঃখের সাথে বলেন, এ মসজিদ স্থাপনে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি ইস্তাম্বুলের কাসিমপাশা জেলায় বড় হয়েছি। আমার মনে আছে মুসলমানদের একটি ছোট স্থানে খবরের কাগজের ওপর নামাজ পড়তে বাধ্য করা হতো। আমরা এখন আশা করতে পারি যে এ মসজিদটি বিশ্বাসী মুসলিমদের দ্বারা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠবে। আমরা আরো আশা করি এ মসজিদটি থেকে সব সময় আজানের ধ্বনি শোনা যাবে।”

তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ডিজিটাল লাইব্রেরি, পড়ার স্থান, এক্সিবিশন হল নিয়ে এ মসজিদটি ইস্তাম্বুলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও শিল্প কেন্দ্রে পরিণত হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এরদোগান নিজ দলে নেতাদের এক বৈঠকে তার ভাষণে বলেন, ‘বহু বছর ধরে, আমার শৈশব থেকে, তারা বলে আসছে, তুমি এটা করতে পারবে না। তবে, আল্লাহ আমাদের আমাদের ভাগ্যে (এটার নির্মাণ) লিখে রেখেছেন।’

১৯৫২ সালে প্রথম এ মসজিদটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলে সেক্যুলারবাদীরা এর বিরোধিতায় তা আটকে যায়। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আইনি বিরোধের শেষ প্রান্তে বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিশেষ উদ্যোগে মসজিদটি বাস্তবতা পায়।

উসমানিয়া আমল থেকেই ওই এলাকায় অমুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশের মিশন রয়েছে। তাছাড়া গ্রিক, আর্মেনিয়া, ইহুদি সম্প্রদায়ের লোকজনেরও ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে, তাদের অনেক সম্পত্তিও রয়েছে সেখান।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে মুসলিমদের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এরদোগান তাকসিম স্কয়ার মসজিদকে ইস্তাম্বুল নগরীর ‘তৃতীয় আধ্যাত্মিক কেন্দ্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

নগরবাসীও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। শত শত লোক লোক মসজিদের বাইরেও নামাজে শরিক হয়। তারা এরদোগানের প্রতি সমর্থনও প্রকাশ করে।

সূত্র : ডেইলি সাবাহ ও মিডল ইস্ট আই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *