145 

আনোয়ার হোসাইনঃ গত সোমবার,গোয়াইনঘাটের বাউরভাগ বালু নদীতে পাওয়া উদ্ধারকৃত মর্টার শেলটি ২৬শে জুন ১৯৭১ সালের। এমন ধারণাটিই সঠিক হবে। এদিন তুমুল এক যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী সেখানে মুক্তিযুদ্ধারের লক্ষ্য করে অনেকগুলি মর্টারশেল ছুড়ে মেরেছিল।

গত সোমবার ২২ মার্চ-২০২১ গোয়াইনঘাটের পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের বাউরভাগ গ্রামের বালু নদীতে বালু উত্তোলন কাজে শ্রমিকরা একটি পরিত্যক্ত মর্টার শেল পায়। পরে খবর শুনে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ এটি উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে। ধারণা অমুলক হবে না যে, অবিস্ফোরিত এই মর্টার শেলটি সেদিনের ঐতিহাসিক ঘটনার এক জ্বলন্ত প্রমান।

২৫জুন ১৯৭১, জাফলং নয়াগাঙ্গের পাড়ে মুক্তি বাহিনী ক্যাম্প। এখানে রয়েছেন ৩০০ জন মুক্তিযোদ্ধা। অপর দিকে শ্রীপুরে পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প। দুরত্ব খুবই কম। প্রায়ই গুলাগুলি হয় উভয় পক্ষে। ক্ষয়-ক্ষতিও প্রচুর হচ্ছে। এমতাবস্থায়,সুবেদার বি অার চৌধুরী একটি অপারেশন পরিকল্পনা করেন। মুক্তিবাহিনী ক্যাম্পের সাব সেক্টর কমান্ডার তিনি।

২৬শে জুন,পরিকল্পনা অনুযায়ী শ্রীপুরে পাক হানাদার বাহিনীর উপর হঠাৎ এক অাক্রমণ শুরু করে দেন। এতে কিছু সময়ের মধ্যকার অভিযানে পাক বাহিনীর ব্যুহ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। তখন শেষ চেষ্টা হিসাবে পাক বাহিনী প্রচুর মর্টারশেল নিক্ষেপ করে মুক্তি বাহিনী উপর। কিন্তু তা কোন কাজে অাসে নি তাদের। কিছুক্ষণ পরই তারা পেছনে সরতে থাকে। শুরু হয় প্রাণে বাচার পালা। উৎসাহিত হতে থাকেন মুক্তিযোদ্ধাগণ। এ যুদ্ধে পাক বাহিনী ফেলে যায় সহযোদ্ধাদের মৃতদেহ,অস্ত্র, গোলাবারুদ,ও বেশ কিছু রসদ সামগ্রী। পুরো শ্রীপুর দখলে অাসে মুক্তিবাহিনীর। বিজয় অানন্দে সুবেদার বি অার চৌধুরী শ্রীপুর সহ গোয়াইনঘাট এলাকা কে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন। এই অপারেশনে একজন মুক্তিযুদ্ধা সেখানে শহীদ হন। অবশ্য, গুলখান নামে এক পাক সেনা কে তারা ধরে নিয়ে ফিরেন মুক্তি বাহিনী ক্যাম্পের দিকে।……

————————————————————-

-অানোয়ার হোসাইন, মুক্তিযুদ্ধ লেখক। সম্পাদকঃ একে নিউজ।
চেয়ারম্যান, গোয়াইনঘাট উন্নয়ন ফোরাম।
————————————————————-

তথ্য সুত্রঃ গোয়াইনঘাট ডাইজেস্ট, জুন২০১৯ সংখ্যা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *