169 

বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হচ্ছে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক। এই মহাসড়কটি চারলেনে উন্নীত করা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে তোড়জোড় চলছে। তবে কাজের কাজ এখনও কিছুই হয়নি। অর্থায়ন জটিলতায় মহাসড়কটি চারলেনে উন্নীত করার কাজ আটকে আছে বলে জানা গেছে।

সূত্র মতে, শুরুতে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে চীনা অর্থায়নের কথা ছিল। এ প্রকল্পটি ২০১৬ সালে ১৪ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘স্ট্রেনদেনিং ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড প্রডাকশন ক্যাপাসিটি কো-অপারেশন’ নামক সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি বাস্তবায়নের জন্য চীন সরকার চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডকে মনোনয়ন দেয়। তবে প্রক্রিয়াকরণে বিলম্বসহ নানা কারণে ২০১৮ সালের ২৯ মে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ চিঠি দিয়ে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) জানায়, প্রকল্পটি চীনা অর্থায়নের পরিবর্তে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। বিষয়টি জানিয়ে ওই বছরের ২৯ জুলাই চীনা দূতাবাসে চিঠি পাঠায় ইআরডি। তাতে চীনা অর্থায়ন প্রক্রিয়া বাতিল করার অনুরোধ জানানো হয়।

তবে এরপরও পরিকল্পনা কমিশন এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ প্রকল্পটির জন্য নতুন করে বৈদেশিক সহায়তা অনুসন্ধান করতে ইআরডিকে অনুরোধ জানায়। এর মধ্যে চীনের আরেকটি কোম্পানি অর্থায়নে আগ্রহ দেখালেও তা বেশি দূর আগায়নি। শেষপর্যন্ত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে।

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সরকারের এই অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পে এডিবি অর্থায়ন করতে রাজি হয়েছে। এডিবির ঋণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, ‘ইম্প্রুভমেন্ট অব ঢাকা (কাচপুর)-সিলেট রোড টু ফোরলেন হাইওয়ে অ্যান্ড কন্সট্রাকশন অব সার্ভিস লেন অন বোথ সাইড’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ শুরু হতে দেরি হওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। ১২ হাজার ৬৮৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা থেকে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ১৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। একইসাথে বাড়ছে প্রকল্পের মেয়াদও। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ছিল মেয়াদ। সর্বশেষ মেয়াদ বেড়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, যেকোনো কাজ শুরু হতে দেরি হলে ব্যয় বাড়ে।

এদিকে, ঢাকার কাঁচপুর থেকে সিলেটের মোগলাবাজার এলাকাস্থ হাবিবুর রহমান চত্বরের প্রায় এক কিলোমিটার আগ পর্যন্ত সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দূরত্ব ২২৮ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার। তবে চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজে সড়কের দূরত্ব কয়েক কিলোমিটার কমছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত ১১ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার সড়ক ‘আশুগঞ্জ (নদীবন্দর)-সরাইল-দরখার-আখাউড়া (স্থলবন্দর) সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফলে এই অংশ নতুন প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ভৈরব সেতু চারলেনবিশিষ্ট হওয়ায় এ অংশও বাদ যাচ্ছে। সবমিলিয়ে প্রকল্পে ২১৪ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার সড়কের কাজ হবে।

(মোহাম্মদ রুহুল আমিন)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *