124 

ডেস্ক নিউজঃ ছাতকে একটি প্রবাসী পরিবারকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে একই গ্রামের চাঁদাবাজ চক্র। প্রবাসী পরিবারের লোকজনকে হত্যা, গুম করার হুমকি, বাড়ি-ঘরে একাধিকবার হামলা-লুটপাট করে যাচ্ছে এ লুটপাটকারী ও চাঁদাবাজচক্র। ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে দু’দফা লুটপাট করে রড, সিমেন্ট, ইট সহ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়েছে গ্রামের আবুল কাশেম ও মান্নান চক্র। উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের খারগাও গ্রামের আতাউর রহমানের পরিবারের উপর এ অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। গত ২৯ মার্চ প্রবাসী পরিবারের বাড়ির রাস্তার সম্মুখে একটি গেইট নির্মাণ করতে চাইলে গ্রামের আবুল কাশেম-মান্নান চক্র এতে বাধা দেয় এবং প্রবাসী পরিবারের কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। এর আগেও এ পরিবারের কাছে একাধিকবার মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছে তারা। চাঁদা না দেয়ায় নির্মাণাধীন গেইটের পিলার ভাংচুর ও নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় এ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ চক্র। তারা প্রবাসী দু’জনকে হত্যারও হুমকি দেয়। গেইট নির্মাণ ও লুটপাটের বিষয় নিয়ে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হলে শনিবার উভয়পক্ষকে নিয়ে থানায় আলোচনা হয়। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান অদুদ আলমও উপস্থিত ছিলেন। থানায় আবুল কাশেমরা একটি লিখিত দিয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে প্রবাসী পরিবারের গেইট নির্মাণ করতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। নিজস্ব ভূমিতে তারা গেইট নির্মাণ করছে। ২৫এপ্রিল গেইট নির্মাণ কাজ শুরু করেন আতাউর রহমানের পরিবার। সারাদিন নির্মাণ কাজ চললেও এতে কোনো আপত্তি আসেনি। রাত ১০টার দিকে আবুল কাশেম, আব্দুল মান্নান, জসিম উদ্দিন সহ চক্রের লোকজন নির্মাণকাজ গুড়িয়ে দিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের রড, সিমেন্ট সহ নির্মাণসামগ্রী একটি পিকআপ ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। এসময় তারা নির্মাণ শ্রমিকদের মারপিট ও আতাউর রহমানের পুত্র খালেকুজ্জামানকে আহত করে। পরে লুটপাটকারীরা প্রবাসী পরিবারের বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনায় আতাউর রহমানের পুত্র খালেকুজ্জামান বাদী হয়ে ছাতক থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ছাতক থানার এসআই উজ্জ্বল মিয়া মামলা দায়েরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। মামলায় খারগাও গ্রামের ধলাই মিয়ার পুত্র আবুল কাশেম, সোনা মিয়ার পুত্র জাবেদ মিয়া, আরজ আলীর পুত্র শিশু মিয়া, হানিফ আলীর পুত্র মান্নান মিয়া, আব্দুল আলীম, আব্দুস শহিদ, মোহাম্মদ আলী, পেচন আলীর পুত্র গফফার মিয়া, রমই মিয়ার পুত্র জসিম উদ্দিন, ফজলু মিয়ার পুত্র হাকিম আলী, হরমুজ আলীর পুত্র আসলম আলী, শুক্কুর আলীর পুত্র ওয়ারিছ আলী, ইউসুফ আলীর পুত্র ইউনুস আলী, সুন্দর আলী, মুসলিম আলীর পুত্র লালা মিয়া সহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জনকে আসামী করা হয়েছে। প্রবাসী নাছির আলী জানান, সন্ত্রাসী ও হামলাকারীদের ভয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন তিনি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রবাসীদের নিরাপত্তার জন্য তারা দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *