317 

ডেস্ক নিউজ: লালকেল্লায় পৌঁছে গেছে কৃষকদের মিছিল। শুধু পৌঁছে গেল তাই নয়, লালকেল্লায় পৌঁছে কৃষক আন্দোলনের পতাকা উড়িয়ে দিলেন তারা। সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস, লাঠি চার্জ। কিছু দিয়েই পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারল না প্রতিবাদী কৃষকদের। তিন সীমানায় সব ব্যারিকেড ভেঙে চুরমার হল মঙ্গলবার। পুলিশের ঘোষিত পথে গেল না হাজার হাজার ট্রাক্টর। পথ পাল্টে লালকেল্লায় গিয়ে কৃষকদের মধ্যে থেকে আওয়াজ উঠল ‘অকুপাই দিল্লি’।

পুলিশের ঘোষণা ছিল, মঙ্গলবার সকাল ১২টা নাগাদ কৃষকদের মিছিল নির্দিষ্ট তিনটি রুটে গিয়ে আবার উৎসস্থলে ফিরে আসবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটল উল্টো। সকাল ৮টা থেকে লাগামছাড়া গতিতে দিল্লির দিকে ধেয়ে আসতে থাকে মিছিল। পুলিশের বাধা কেউ মানেননি। আর তাই নিয়ে উত্তপ্ত হয়েছে দিল্লির নয়ডা মোড়, আইটিও মোড়, এসবিটি এলাকা।

ভারতের ৭২তম প্রজাতন্ত্র দিবসে বিতর্কিত তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে এভাবেই অবরুদ্ধ করা হলো রাজধানী দিল্লি।

একাধিক ফুটেজে দেখা গিয়েছে, কৃষকদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ছোড়ে পুলিশ। চলে লাঠি। পাল্টা কৃপাণ হাতেও কৃষকদের দেখা গিয়েছে। সকাল ১০টায় নয়ডা মোড়ের চিত্রটা ছিল এমনই। পুলিশ লাঠি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি।


আইটিও মোড়ে দেখা গিয়েছে, কীভাবে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যেতে চাইছেন কৃষকরা। সেখানেও বিপুল সংখ্যায় ট্র্যাক্টর এসে পড়ে। মূলত দিল্লির সীমানা এলাকায় বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকার কারণে দিল্লির ভেতরে পুলিশের আঁটুনি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেই কারণে বিনা বাধায় এগিয়ে যেতে থাকেন কৃষকরা। আইটিও মোড় থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তর। সেখানে গিয়ে প্রতিবাদরত কৃষকরা হাজির হবেন কি না, তা নিয়ে বাড়তে থাকে চিন্তা।
প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন তিনটি নির্দিষ্ট পথে ট্রাক্টর মিছিল করার অনুমতি দেয় দিল্লি পুলিশ। কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে সকালেই মিছিল শুরু করেন আন্দোলনরত কৃষকরা। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ট্র্যাক্টর নিয়ে রাজধানীতে ঢুকতে শুরু করে কয়েক হাজার কৃষক। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল ছোঁড়ার পাশাপাশি লাঠি চার্জ করে পুলিশ।

ভারতের নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দিল্লিতে ট্রাক্টর নিয়ে মিছিল করবেন আন্দোলনকারী কৃষকরা এটা আগেই জানানো হয়েছিল। ‘কৃষাণ প্যারেড’ নামের এই মিছিল স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার পর শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু সকাল ৮টার মধ্যেই রাজধানীর সীমান্তে হাজার হাজার লোক জড়ো হন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, এতে নজিরবিহীন দৃশ্যের অবতারণা হয়। দিল্লি ও হরিয়ানাকে বিভক্তকারী সিংঘু সীমান্তে ও ভারতের রাজধানীর পশ্চিম অংশে টিকরি সীমানায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার লোক পতাকা হাতে হেঁটে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান, তাদের অনেকে আবার ট্রাক্টর নিয়েই ঢুকে পড়েন।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, প্রজাতন্ত্র দিবসে তিনটি নির্দিষ্ট পথে ট্রাক্টর মিছিল করার অনুমতি দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ, কিন্তু সরকারি নির্দেশকে উড়িয়ে দিয়ে সিংঘুতে সকালেই মিছিল নিয়ে নেমে পড়েন কৃষকরা। পাঁচ হাজার কৃষকের জমায়েতের সামনে অসহায় হয়ে পড়েন পুলিশ সদস্যরা, তারা বারবার ধীর গতিতে এগোনোর অনুরোধ করলেও কৃষকরা দ্রুতগতিতে দিল্লির দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন।

প্রসঙ্গত, দফায় দফায় কৃষক ও নরেন্দ্র মোদি সরকারের মধ্যে বৈঠকের পরও ভারতের নয়া কৃষি আইন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে কোনো সমাধান আসেনি। সম্প্রতি সরকার দেড় বছরের জন্য এ আইন কার্যকর না করার প্রস্তাব দিলেও তাতে রাজি হয়নি কৃষকেরা।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, এ পর্যন্ত দুই পক্ষের মাঝে ১০ দফা বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার কৃষি আইন প্রত্যাহার অনড় কৃষি সংগঠনগুলোর দাবি আংশিক মেনে শেষ বৈঠকে সরকারের প্রস্তাব ছিল ওই আইন দেড় বছর কার্যকর না করার। সেই প্রস্তাবেও সায় দেয়নি কৃষক সংগঠনগুলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *