181 

নাজির উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি:

ঘটনাস্থল সিলেট সদর উপজেলার ৭নং মোগলগাও ইউনিয়নের সুরমা নদী তীরবর্তী মীরেরগাও গ্রাম।

২০১১ সালেরর মধ্য জানুয়ারি। গভীর রাত। কনকনে শীতে কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ। গভীর ঘুমে গ্রামের সকল মানুষ। হঠাৎ মধ্যরাতে নারী পুরুষের যৌথ আর্তচিৎকার শুনে ঘুমের ঘোরে দৌড়ে আসেন এলাকাবাসী। দেখতে পান বিশাল আগুনের কুন্ডলী। আকাশ ছুঁই ছুঁই আগুনের লেলিহান শিখা দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ছে এ ঘর থেকে ও ঘরে।

এলাকার মানুষের প্রচেষ্টায় নদী আর পুকুর থেকে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আগুনোর তীব্রতা এতোই বেশী ছিল যে কেউ কাছেই যেতে পারছিলেন না।
ইতিমধ্যে খবর দেয়া হয় ফায়ার সার্ভিসে। সিলেট শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যখন অগ্নিস্থলে পৌছলো তখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। মুহুর্তেই ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়ে যায় নয়টি দরিদ্র পরিবারের যাবতীয় সহায় সম্বল।
পরদিন বিভিন্ন মহলের সহযোগিতার আশ্বাস এবং অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতা করলেন। যা তাদের তাৎক্ষনিক খাদ্য-বস্ত্রের চাহিদাই পুরণ হয়। গৃহ পুনঃনির্মাণের জন্য টাকা আর অবশিষ্ট ছিলনা। তীব্র শীতের মধ্যে কোন রকম তাঁবু টানিয়ে খোলা আকাশের নীচেই হয় নয়টি পরিবারের প্রায় ৬০ জন নারী, পুরুষ আর শিশুদের আবাস। গৃহ পুনঃনির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় টাকার অভাবে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে থাকেন গরীব অসহায় মানুষগুলো।

সেই মুহুর্তে এগিয়ে আসে বৃহত্তর লামাকাজী এলাকার লন্ডন প্রবাসীদের সংগঠন “গ্রেটার লামাকাজী ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউকে”। অসহায় ৯টি পরিবারের জন্য ৯টি পাকাঘর নির্মান করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

তাৎক্ষনিক শুরু হয় পাকা ঘর নির্মান কাজ। সার্বিকভাবে তত্ত্বাবধান করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হিরণ মিয়া, বাংলাদেশ কমিটির সদস্য রুহুল আমিন, নাজির উদ্দিন, কিরন মিয়া প্রমুখ। লন্ডন থেকে ছুটে আসেন সংগঠনের তৎকালীন সভাপতি দৌলত খান বাবুল। অল্প দিনের ব্যবধানে ধ্বংসস্তুপের উপর গড়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন পাকা ঘর। এক এক করে নয়টি পরিবারকে হস্থান্তর করে দেয়া হয় নিজ নিজ ঘর।

এবার আসা যাক নতুন সমস্যা প্রসঙ্গে।

আগেই জানিয়েছিলাম বাড়িটি নদী তীরবর্তী। খরস্রোতা সুরমা নদী প্রবাহমান উপরোক্ত বাড়ির দক্ষিন সীমানা বরাবর। সাম্প্রতিক সময়ে সুরমা নদীর ভাঙ্গন প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে লামাকাজী সেতুর পূর্বপারের লালারগাও থেকে ভাটির দিকের দুই কিলোমিটার জুড়ে নদী ভাঙ্গনের পরিমাণ এতোই বেশী যে, কাচা পাকা শতাধিক বাড়িঘর এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে বিগত কয়েক বছরে।

মীরেরগাও গ্রামের উল্লিখিত বাড়িটিও রয়েছে ঝুকির মধ্যে।

বাড়ীর দক্ষিন অংশ ভাংতে ভাংতে ঘরের কিনারে এসে ঠেকেছে। যেকোন মুহুর্তে নদীতে চলে যাবার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নদী ভাঙ্গন সমস্যা নিয়ে অত্র এলাকার জনগন বেশ সোচ্চার রয়েছেন। একাধিক বার করেছেন মানব-বন্ধন ও সংস্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে স্বারকলিপি পেশ। এগুলো ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে। সরকারের কর্তা-ব্যক্তিগণ বিভিন্ন সময় নদীর ভাঙ্গন রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কিছুই পরিলক্ষিত হয়নি।

সিলেট- ১ আসনের সংসদ সদস্য ও মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সহ সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি বর্গের প্রতি এলাকাবাসীর আবেদন, যথাশীঘ্র সম্ভব অত্র এলাকার নদী ভাঙ্গনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করবেন। অন্যথায় আরও বাড়ী ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। নদী পারের মানুষ হয়ে পড়বে গৃহহীন উদ্ধাস্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *