179 

ডাঃ লোকমান হেকিমঃ  সিলেটে হঠাৎ করে গতকাল থেকে প্রচন্ড গরম পড়েছে। সকাল থেকে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। প্রখর তাপে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন খেটে খাওয়া মানুষ। এই প্রচন্ড তাপদাহে শরীর সুস্থ রাখতে হলে প্রয়োজন খাবার গ্রহণে সচেতনতা। এ সময় পানিশূন্যতা রোধে প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে। বয়সভেদে দৈনিক দেড় থেকে তিন লিটার পানি গ্রহণ করা উচিত। এ সময় অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে খনিজ বের হয়ে যায়। তাই এই অভাব পূরণে আমাদের পানির পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুপানি, বিভিন্ন ফলের রস এবং পানিজাতীয় রসাল ফল গ্রহণ করা উচিত। লেবু, তেঁতুল, টমেটো, বেল,খেজুর, আম ও কলা ইত্যাদি উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত ফল গ্রহণ এই প্রচন্ড গরমে আমাদের শরীরকে চাঙা রাখবে। বাঙ্গি,তরমুজ, আনারস এবং পেপেও শরীরের জন্য ভালো। তবে মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত তরমুজ যেন ‘এ’ টক্সিসিটি তৈরি না করে।
এই গরমে অবশ্যই ভুনা খাবার, তৈলাক্ত খাবার এবং ভাজা খাবার এড়িয়ে সহজপ্রাপ্য যেমন- ঝোল এবং সেদ্ধ খাবার গ্রহণ শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে। খোলা জায়গায় তৈরি ফলের রস যেমন – লেবুর শরবত, আখের রস ইত্যাদি বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের কারণ হতে পারে।
গরম থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিন গোসল করতে হবে। বিনা প্রয়োজনে প্রখর তাপে ঘর থেকে বের না হওয়াই ভালো। শিশুদের রোদে খেলাধুলা থেকে বিরত রাখতে হবে। বাইরে বের হলে খাবার পানি সাথে রাখবেন।
গ্রীষ্মের প্রখর তাবদাহের মধ্যে প্রধানত শিশু – বৃদ্ধরাই বেশি আক্রান্ত হয়। সব বয়সের মানুষ গরমের শিকার হলেও সবার প্রতিরোধ ক্ষমতা এক হতে পারে না। তাই ঋতু অনুযায়ী আমাদের লাইফস্টাইল একটু পরিবর্তন করে নিতে পারি। যেমন- শিশুদের গায়ে এ সময় পাতলা সুতির ঢিলেঢালা হাফহাতা জামা পরাতে পারি। তেমনি সব বয়সের পুরুষ হাফহাতা জামা ও পাঞ্জাবি গায়ে নিতে পারি। এ সময় গেঞ্জি না পরাই ভালো। কারণ, গেঞ্জি গায়ের সাথে লেগে থাকার জন্য বেশি গরম অনুভূত হয়। যারা অফিস করেন তারা হাফহাতা উড়ন্ত শার্ট পরতে পারেন। যারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে কাজ করেন,তারা স্বাভাবিক ফুলহাতা শার্ট ও গেঞ্জি পরতে পারেন। সবাই ঘন ঘন পানি পান করবেন ইচ্ছে না হলেও। শরীর যেন কোনো মতেই পানিশূন্য না হয়ে পড়ে। চা বা কফি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলবেন। তাই বলে কোনো কোলাপানি পান করবেন না, বরং তার পরিবর্তে শুধু লেবুর রস মিশিয়ে পানি পান করবেন। যারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমে কাজ করেন, তারা বাদে বাকি সবাই জুতা – মোজার পরিবর্তে স্যান্ডেল – সু পরতে পারেন। এতে পা ঠান্ডা থাকবে। রাস্তায় যারা পায়ে হেঁটে চলাচল করেন, তারা অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করবেন। রাস্তায় বিশ্রামের জন্য কোনো ছায়াবহুল বৃক্ষের নিচে আশ্রয় নেবেন। এতে অক্সিজেন ও বাতাস দুটোই পাবেন। ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্ষেতখামারে রোদে কাজ না করা ভালো। এক কথায় শরীর যা চায় না,তা না করাই ভালো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *