290 

ডেস্ক নিউজঃ লকডাউনের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে সিলেটস্থ ব্রিটিশ ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার। ৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ হওয়া ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার আবার কবে খুলবে তারও ঠিক নেই। এই অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গমনেচ্ছু সিলেটের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। অনেক শিক্ষার্থীর কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলেও এপ্লিকেশন সেন্টার বন্ধ থাকায় ভিসার জন্য জমা দিতে পারছেন না পাসপোর্ট। এতে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেকে। শিক্ষার্থীদের দাবি, দিনে অন্তত দু’ঘন্টা করে হলেও ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টার খোলা রাখার।

ভিসা ফ্যাসিলিটেশন সার্ভিস (ভিএফএস) এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে গমনেচ্ছুরা তাদের ডকুমেন্ট আদান-প্রদান করে থাকেন। ভিসার আবেদনও করে থাকেন ভিএফএস’র মাধ্যমে। ২০০৭ সাল থেকে সিলেটে ভিএফএস’র কার্যক্রম চলে আসছে। সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গালস্থ হোটেল নির্ভনা ইন -এ প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান। লোকাল লকডাউন রেগুলেসন্স’র কারণে গত ৫ এপ্রিল থেকে এই ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারটি বন্ধ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে গমনেচ্ছু রাহিমা আক্তার চৌধুরী জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি স্টুডেন্ট ভিসা পেয়েছেন। এর পর তিনি ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে তার স্বামী ও ১০ মাস বয়সি শিশুর ভিসার জন্য আবেদন করেন। স্বামী ও সন্তানের ভিসা কালেকশনের জন্য ভিএফএস থেকে গত ৪ এপ্রিল খুদে বার্তা আসে। কিন্তু ওই দিন ইস্টার সান ডে’র বন্ধের কারণে ভিসা কালেকশন করতে পারেননি। পরদিন ৫ এপ্রিল গিয়ে দেখেন ভিএফএস বন্ধের নোটিশ। তিনি জানান, তার ভিসার এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্স শেষ হয়ে যাবে ১৭ মে। এছাড়া আগামি ১৫ মে তার ফাইনাল পরীক্ষাও রয়েছে। এসময়ের মধ্যে তিনি যুক্তরাজ্যে যেতে পারবেন কি-না এ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

নগরীর মেন্দিবাগ এলাকার জুনেদ আহমদ চৌধুরী জানান, যুক্তরাজ্যের যে বিশ^বিদ্যালয়ে তিনি ভর্তি হয়েছিলেন সেখানে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দিয়েছিলেন কিন্তু ভিএফএস বন্ধ থাকায় তিনি পাড়েছেন বিপাকে। ভিসা হয়েছে কি-না তাও জানতে পারছেন না, ফেরত পাচ্ছেন না পাসপোর্টও।

প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজারের আফিয়া বেগম জানান, তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু ভিএফএস বন্ধ থাকায় ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দিতে পারছেন না।
ভুক্তভোগী আরো অনেক শিক্ষার্থী জানান, বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে তারা অনলাইনে ক্লাস করছেন। পাসপোর্ট ডেলিভারি না পাওয়ায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। যদি কোনো কারণে ভিসা না হয়, তবে সংশ্লিষ্ট বিশ^বিদ্যালয় তাদের প্রদেয় ফি’র ২৫ শতাংশ কেটে রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *