288 

আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এইদিনে পূর্ণ হলো স্বাধীনতার ৫০তম বছর। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, যার নাম বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছরও। তাই এবার দিবসটি উদযাপনে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে বাংলাদেশ সরকার। নেয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। কর্মসূচি দেয়া হয়েছে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উর্ধ্বগতির কারণে এবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে অন্যরকমভাবে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতি মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাবে। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দিনের কর্মসূচি। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণী দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সফরে এসে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশে নেওয়া বীর শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ, নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারী, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। এছাড়া ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে বীর শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্বাধীনতার পরে এবারেই প্রথম কোন স্বাধীনতার মাসে বাংলাদেশ সফরে এসে স্মৃতিসৌধে শহীদদের স্মরণ করলেন কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা।

ইতিহাস বলছে, স্বাধীনতার আন্দোলনের মুখরতায় টালমাটাল ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের ২৬ তারিখ ছিলো পবিত্র জুমাবার। সেদিন সুউচ্চ মিনার থেকে ভেসে আসা মুয়াজ্জিনের আযানের ধ্বনি, মুক্ত বিহঙ্গের উড়াউড়ি-ডাকাডাকি, নদীর নিঃশব্দে কিংবা কলকল রবে বয়ে চলা, এমনকি শাশ্বত সূর্যোদয়ের মধ্যেও নিহিত ছিলো অন্যরকম দ্যোতনা। কারণ সেদিন এ দেশের নির্বিশেষে মানুষ স্বাধীনতা লাভের অদম্য বাসনা নিয়ে পাকিস্তানীদের সীমাহীন ও অব্যাহত শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনা করেছিলেন। তাইতো দিনটি আবেগমথিত, মহিমান্বিত ও স্বাতন্ত্র্যে ভাস্বর। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক দিন আজ।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে যে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, দীর্ঘ ৯ মাসে মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলার দামাল সন্তানেরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। সাড়ে সাত কোটি মানুষ পেয়েছিলো নিজস্ব মানচিত্র, নিজের মতো করে একটি লাল-সবুজ পতাকা। অযুত জনতার আপোষহীন মনোভাব ও বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বতন্ত্র স্বাধীন জাতিসত্তায় বিশ্ববুকে অধিষ্ঠিত। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল শুধু পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়া নয়; গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। বিগত পাঁচ দশকেও এসবের কোনোটিই পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আজ প্রত্যেকের উপলব্ধির সময় এসেছে ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন’।

গোটা জাতি আজ সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করবে স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য বীর সেনানী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার। জাতি সেসব অজ্ঞাতনামা বীর শহীদদেরও স্মরণ করবে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে এতটুকু কুণ্ঠাবোধ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *