197 

ডেস্ক নিউজ: মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে হিরণ। সে তৈরি করল ড্রোন। ৪২ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের রিমোট চালিত খেলনা প্লেন আকাশে উড়িয়ে সে এলাকার সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

১৮ বছর বয়সী হিরণ বিনোদপুর বাজারে এনামুলের মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে বেতনভুক্ত সামান্য একজন কর্মচারী।সে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর মোল্যাপাড়ার মৃত আবুল খায়েরের ছেলে।পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীন ২০১৩ সালে দিনমুজুর বাবা আবুল খায়ের মারা যান। মা তাসলিমা বেগম ও দুই ভাইয়ের অভাবের সংসারের হাল ধরতে আর লেখাপড়া করতে পারেনি সে। দুই ভাইয়ের মধ্যে হিরণ ছোট।দারিদ্রের কারণে প্রাইমারি পাশ করার আগেই তাকে জীবিকার সন্ধানে নামতে হয়। কিন্তু তার আছে জানার প্রচণ্ড ইচ্ছা-কৌতুহল আর উদ্ভাবনী ক্ষমতা।সে খেলনা হিসেবে রিমোট চালিত প্লেন তৈরি করে আকাশে উড়িয়েছে এবং স্পিডবোট তৈরি করে পানিতে চালাতে সক্ষম হয়েছে।

সদা হাস্যোজ্জ্বল তরুণ হিরণ।অভাবের সংসার চালাতে শিশুকাল থেকেই ভ্যান চালানো, গ্যাস লাইট মেরামত ও গ্যাস ভরাসহ নানা ধরনের কাজ করতে হয়েছে তাকে। তার আয়ে বড় ভাই এসএসসি পাস করে ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি নিয়েছিলও করোনার কারণে বর্তমানে বেকার হিরণের আয়ে এখন চলছে চার সদস্যের পরিবার। তবে তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে পিছিয়ে নেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের জানা হিরণ।তার তুখোড় মেধা থেমে থাকেনি কখনও। মেধাবী হিরণ মনের আনন্দেই খেলনা হিসেবেই তৈরি করেছে ৪২ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ২৯ ইঞ্চি প্রস্থের দুটি প্লেন, দুটি জেট ফাইটার বিমান ও দুটি স্পিডবোট।

খেলনা হলেও প্লেন আকাশে উড়তে সক্ষম। অনেক গতিতে চারদিকে দুই কিলোমিটার ঘুরে আসতে পারে এই প্লেন। স্পিডবোটও পানিতে চলতে পারে। ব্যাটারির চার্জ কমে গেলে একটা সংকেত দেয়। যার ফলে এটাকে হিরণ নামিয়ে আনতে পারে। খেলনা হিসেবে এলাকায় বিক্রয়ের জন্য তৈরি করলেও ব্যয় বেশি হওয়ায় এটা সে বিক্রি করতে পারেনি।

প্লেন-বিমান বা স্পিডবোটের কোনো একটি তৈরি করতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। যদি ভালো কোনো পৃষ্টপোষক পায় তাহলে হিরণ এটিকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করবে বলে জানায়।

বিনোদপুর চৌরাস্তা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি হরসিত ঘোষ বলেন, হিরণের বাবা হাট-বাজারে গান গাওয়াসহ বিভিন্ন সময় নানা ধরনের কাজ করে সংসার চালাতেন। হিরণ ও রনি লেখাপড়া করতো। ওদের মেধা ভালো ছিল। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরতে গিয়ে লেখাপড়া শিখতে পারেনি হিরণ। সহযোগিতা পেলে হিরণের মতো মেধাবীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *