54 

ডেস্ক নিউজঃ আজ থেকে পাঁচ বছর পূর্বা ২০১৬ সালেই ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে জিন্দাবাজারের রাজা ম্যানশনকে চিহ্নিত করে সিলেট সিটি করপোরেশন। ওই সময়ই এই ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তবে এই নির্দেশনার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত টিকে আছে নগরের পুরনো এই ভবনটি। ঝুঁকি নিয়েই চলছে এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য।

গত ২৯ ও ৩০ মে নগরে কয়েকদফা ভূমিকম্প হয়। নগরজুড়ে দেখা দেয় ভূমিকম্প আতঙ্ক। এ অবস্থায় রাজা ম্যানশনসহ নগরের ৬টি ভবনকে ঝূকিপূর্ণ ঘোষণা বন্ধ রাখার নির্দেশা দেয় সিলেট সিটি করপোরেশন।

পরবর্তীতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল ভবনটি পরিদর্শন করে এতে ঝূঁকির প্রমাণ পায়। এবং এটচি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়।

ব্যবসা-বকাণিজ্যও সম্প্রতি পুরেনো-জরাজীর্ন চেহারা বদলে ফেলতে নতুন রং করা হয়েছে রাজা ম্যানশনের। সাদা চুনাকামের মার্কেটে এখন হলদে রং।

তবে রং বদলে ফেলে ভূমিকম্পের ঝূঁকি কতটুকু ঠেকানো যাবে এমন প্রশ্ন থেকেই যাবে।

সিলেট সিটি করপোরেশন ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা রাজা ম্যানশনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করলেও গত ৩০ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কেটটির দোকান মালিকরা দাবি করেন, ‘রাজা ম্যানশন’ নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।

৩০ জুন সংবাদ সম্মেলনে মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ নয় এবং তা ভেঙে ফেলার প্রয়োজন নেই।

লিখিত বক্তব্যে মার্কেটের ব্যবসায়ী কমিটির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক বলেন, ২০১৬ সালের একটি নোটিশে অনুমান করে মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছিল। সম্প্রতি ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন জরিপ ও পরীক্ষা করে প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, ভবনটি রেক্টোফিটিং করে এর স্থায়িত্ব বাড়ানো যাবে। সয়েল টেস্টের পরীক্ষাও মার্কেটের অনুকূলে।

আব্দুল খালিক বলেন, গত ২১ ও ৩০ মে সিলেটে একাধিকবার ভূমিকম্পের পর সিটি করপোরেশন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে ১০ দিনের জন্য বন্ধ করে দেয়। সিটি মেয়রের চিঠির প্রেক্ষিতে ভবনটি সংস্কার করা হয়। অথচ জমিদার ভবনটি সংস্কার উপযোগী নয় দাবি করে ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, গত ১০ জুন সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী সরেজমিন পরিদর্শন করে রেক্টোফিটিং এর মাধ্যমে সংস্কার করা সম্ভব সবলেও মতামত প্রদান করেন।

এরআগে গত ২৪ জুন রাজা ম্যানশনের মালিক পক্ষের উত্তরাধিকার দেওয়ান শমশের রাজা চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, রাজা মৌানশন ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এটি ভেঙে ফেলা দরকার। কিন্তু মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এটি ভাঙতে দিচ্ছেন না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সিটি করপোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকাভূক্ত রাজা ম্যানশন থাকায় সম্প্রতি দফায় দফায় ভূমিকম্পের পর দশ দিন মার্কেটটি বন্ধ রাখা হলেও আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কিসের ভিত্তিতে দশদিন পর আবার খুলে দিলো তা আমাদের বুঝে আসছে না।

শমশের রাজা চৌধুরী মার্কেটের ভাড়াটিয়াদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে সরে যাওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, তা না হলে মাকের্টে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মালিক পক্ষ এর দায়ভার নিবে না।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। কিন্তু দোকান মালিকরা উল্টো সংস্কারের জন্য আমাদের চাপ দেয়।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করেপারেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, রাজা মানশন ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় আছে। এটি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এখন এটি কিভাবে খোলা হয়েছে তা আমার জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *