176 

মধ্যপ্রাচ্যে অসহায় আমাদের নারীরা

সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে যাওয়া বাংলাদেশের নারীদের দেশে ফেরার প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করছিলাম। সম্প্রতি উদ্বেগের সাথে লক্ষ্যণীয় যে, দেশে নারী শ্রমিকদের মৃতদেহ আসার সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। যারা বেঁচে ফিরেছেন সেই নারী শ্রমিকরা ধর্ষণসহ নানাভাবে নির্যাতিত হওয়ার যেসব অভিযোগ করেছেন তাতে মনে হবে, আমরা যাদের গৃহকর্মী হিসেবে পাঠাচ্ছি বর্বর সৌদিরা তাদের কেবলই যৌনকর্মী হিসেবে বিবেচনা করছে।

মরুর বুকে বাংলার নারীর কান্না কেউ শুনছে না, না দূতাবাস, না প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, না মানব রপ্তানিতে জড়িত বায়রা। নারীরা দেশে এসে যা বলছে, সেই কান্না গণমাধ্যমে উচ্চারিত হলেও তা নিয়ে সামাজিক কোন আলোড়ন নেই। সরকার নিরব, নাগরিক সমাজ নিরব, সমাজ-সচেতনতার দাবিদার রাজনৈতিক দলগুলোও কিছু বলছে না।

এদিকে কুয়েতে ইন্টারনেটে নারী গৃহকর্মীদের দাস হিসাবে ব্যবসার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিবিসি নিউজ অ্যারাবিকের তদন্তে দেখা যায়, গুগল ও অ্যাপলের অ্যাপের মাধ্যমে ইন্টারনেটে দাস ব্যবসার পাশাপাশি, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামেও এ ব্যবসা চলছে।

এসব অনলাইনের মাধ্যমে নারী গৃহকর্মীদের ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। বিক্রির সময় হ্যাশট্যাগে লেখা হয়েছে ‘মেইডস ফর ট্রান্সফার’ (হস্তান্তরের জন্য গৃহকর্মী) বা ‘মেইডস ফর সেল’ (বিক্রয়ের জন্য গৃহকর্মী)।

কতটা পরাধীন এ দেশের মেয়েরা, বুঝতে পারি এসব ঘটনায়। হয়তো তাদের মানুষ হিসেবেই বিবেচনা করা হয় না। যদি হতো তাহলে বারবার তাদের এভাবে পাঠানো হতো না সৌদি আরবে।
তারা ফিরে এসে নির্যাতনের কথা বলছে, কিন্তু রাষ্ট্র, সমাজ নিশ্চুপ। তবে কি আমরা ধরেই নিয়েছি যে, সৌদি আরবে আমাদের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার ধরে রাখতে নারীর যৌনতাই একমাত্র বিক্রয়যোগ্য উপাদান? নাকি এরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বলে, আতি দরিদ্র ও ক্ষমতাহীন মানুষ বলে আমরা নিরবে সব মেনে নিচ্ছি?

(সম্পাদক: মোহাম্মদ রুহুল আমিন)

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *