227 

বিদ্যুৎ ও পানির মূল্য বৃদ্ধি সমর্থনযোগ্য নয়

ফের বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়ানো হয়েছে। যা ১ মার্চ থেকেই কার্যকর হবে। জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এ দুটি পণ্যের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন আরও টানাপড়েনের মধ্যে পড়ে যাবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়বে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া অবস্থায় রয়েছে। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন থেকে শুরু করে মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখনই বিদ্যুৎ ও পানির দাম বৃদ্ধি করা হলো।

এ যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’।

বিদ্যুতের দাম আবাসিক থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রাহকদের ইউনিট প্রতি ৩৬ পয়সা বাড়তি দিতে হবে। ইউনিট প্রতি বাড়ানো হয়েছে ৫.৩ শতাংশ। প্রতি ইউনিটের দাম ৬.৭৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭.১৩ টাকা করা হয়েছে। পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে ৮.৪ শতাংশ। ইউনিট প্রতি দাম হয়েছে ৫.১৭ টাকা।

এবারের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিসহ গত ১১ বছরে দাম বৃদ্ধি করা হলো ১০ বার। বলা যায়, প্রতি বছরই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিদ্যুতের দামের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামে পানির দামও ওয়াসা বাড়িয়েছে। প্রতি হাজার লিটারে পানির দাম বেড়েছে আবাসিকে ২.৮৯ টাকা এবং বাণিজিকে ২.৭৪ টাকা। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিইআরসি চেয়ারম্যান যেসব যুক্তি দেখিয়েছেন, তাতে সাধারণ মানুষের কিছু যায় আসে না। তারা শুধু জানে, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বর্ধিত মূল্য তাদের দিতে হবে এবং তাদের জীবনযাপনকে কঠিনতর করে তুলবে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিশ্লেষকরা বলেছেন, নানা কারণে দেশের অর্থনীতিতে যখন নেতিবাচক প্রভাব বিরাজমান, তখন এই দাম বৃদ্ধি অর্থনীতিকে আরও কঠিন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে। শিল্পের উৎপাদন খরচ থেকে শুরু করে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। সাধারণ মানুষ অত্যন্ত বেকায়দার মধ্যে পড়বে।

তারা বলছেন, বিদ্যুৎ ও পানি-এ দুটি খাত অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ না করে দাম বৃদ্ধি করা কোনোভাবেই যৌক্তিক হয়নি।

(সম্পাদক: মোহাম্মদ রুহুল আমিন)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *