239 

আনোয়ার হোসাইনঃ সিলেট নগরীর জিরো পয়েন্টে অবস্থিত হাসান মার্কেট টি এখন সিলেট শহরের সুন্দোর্যের চোখে এক প্রকার বিষফোড়ার মত। একই ভাবে মধুবন মার্কেট, কালেক্টর মসজিদ ও হাসান মার্কেটের সামন ঘিরে কোর্ট পয়েন্টে তৈরীকৃত ফুট ওভার ব্রীজটিও যাত্রী সাধারণের চলাচলে কষ্টের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে পথের কাটার মত।

অভিযোগ রয়েছে, সিলেট নগরীতে প্রথম বারের মত নির্মিত ফুট ওভারব্রীজ টি অপরিকল্পিত ভাবে তৈরী করা হয়েছে। নিরাপদে সড়ক পারাপারে জন্যে নির্মাণ করা হলেও পথচারীরা তা ব্যবহার করেন না। ফলে দেড় কোটি টাকা খরচে নির্মিত স্থাপনাটি কোন কাজে আসছে না। যানজট নিরসনে এটি করা হলেও বাস্তবে উল্টো যানজটের কারণ হয়ে উঠেছে । ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের বিশেষ বরাদ্ধে পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্যে সিলেট নগরীর সবচেয়ে জনবহুল এলাকা কোর্ট পয়েন্টে নির্মাণ করা হয় এই ওভার ব্রীজটি। এতে ব্যয় হয় ১কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা। কিন্তু ব্রীজটি জনগণের জন্যে কোটি টাকা তো দূরের কথা হাজার টাকারও কোন কাজে আসে নি। উল্টো যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

জানা যায়, বর্তমান হাসান মার্কেট যে স্থান কে ঘিরে জরাজীর্ণ ভাবে তৈরী হয়ে আছে, সে স্থানটির নাম ছিল গোবিন্দ পার্ক। ১৯৬৩ সালে সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবুল হাসান গোবিন্দ পার্কের নাম পরিবর্তন করে নিজ নামে এখানে হাসান মার্কেট গড়ে তোলেন । বর্তমানে যা সিলেট নগরীর সৌন্দর্য কে অন্ধকার করে রেখেছে। এক প্রকার বিষ ফোড়ার মত অবস্থায় দাড়িয়েছে। সিলেট নগর পথের কাটা হয়ে রয়েছে। এই জরাজীর্ণ মার্কেটটি সিলেট নগর ভবনকে পর্যন্ত অন্ধকার করে রেখেছে।

সিলেট শহর কে সত্যিকার ভাবে ডিজিটাল পর্যটন নগরী করতে চাইলে নগরীর কেন্দ্র স্থলের বিষফোড় হাসান মার্কেট টি উচ্ছেদ করতে হবে। পুরাতন এই মার্কেটকে এখান থেকে অবিলম্বে তুলে নিতে হবে। নগরীর সুন্দোর্যকে ফুঁটিয়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশনের অপর পাশে অবস্থিত এই মার্কেট নামের বিষফোড়টি কেন উচ্ছেদ করা হচ্ছে না? সচেতন মহলের এই প্রশ্ন অবান্তর নয়। জনসাধারণের সহজ যাতায়াতের সুবিধার্থেও মার্কেটটি উচ্ছেদ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কি পারবেন এই বিষয়ে সাহসী উদ্যোগ নিতে ? হাসান মার্কেট উচ্ছেদ করে এখানে একটি আধুনিক পার্কিং ব্যবস্থা তৈরী করা হবে। এমন কথা দীর্ঘ দিন থেকে শুনা গেলেও বাস্তবে কোন পদক্ষেপই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সিলেট-১ আসনের কর্ণধার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ এ কে আব্দুল মোমিন এই বিষয়ে উদ্যোগ নিবেন। এমন প্রত্যাশা ও দাবী সর্বস্তরের জনসাধারণের। সিলেটের জেলা প্রশাসন সাবেক জেলা প্রশাসক আবুল হাসানের নাম মুছতে নারাজ-এই কথা এখন কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। সামগ্রিক বিবেচনায়,ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়তে সিলেট নগরীর জিরোপয়েন্টে অবস্থিত দেখতে প্রায় পরিত্যক্ত বিষফোড়া হাসান মার্কেট টি অবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে।

সিলেট নগরী হবে এক খন্ড লন্ডন-পরিচ্ছন্ন শহর। সিলেট বাসীর দীর্ঘ দিনের এই দাবী বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। সিলেট নগরীর সাম্প্রতিক অবস্থা দৃশ্য বিবেচনায় বলা যায়, সিলেট নগরীর ফুটপাত এখন প্রায় হকারমুক্ত। এতে দেশের উন্নয়নকামী সচেতন মহলের যে দাবী “সিলেট কে পর্যটন নগরী হিসাবে দেখতে চাই” এই স্বপ্নের ছোঁয়াও ফুটে উঠতে শুরু করেছে। নগরীর চৌহাট্রা থেকে জিন্দাবাজার হয়ে মধুবন পর্যন্ত রাস্তাটি এক অনন্য আঙ্গিকে গড়ে তোলা হচ্ছে। হকারদের জন্যে সিটি ভবনের পাশে আলাদা বিশাল জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হকাররা পাড়া মহল্লায় গিয়েও ফেরী করতে পারবেন। উন্নয়ন কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। লন্ডনের আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে রাস্তার ডিভাইডার সাজ। সিলেট নগরী হতে চলছে এক খন্ড লন্ডন।

এখন উচিৎ হবে, অবিলম্বে হাসান মার্কেট ও ফুট ওভারব্রীজ কে এখানে থেকে সরে ফেলা। আশা করি, সিলেট নগর কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন এবং সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডঃ এ কে আব্দুল মুমিন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবেন।

আমি মনে করি, সিলেটের বিষফোড়া হাসান মার্কেট ও যাত্রী সাধারণের পথের কাটা ফুট ওভারব্রীজটি সরালে সিলেট শহর হবে উম্মুক্ত পর্যটন নগরী ।
লেখক:
সম্পাদক, একে নিউজ ও সভাপতি, সিলেট নগর উন্নয়ন ফোরাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *