109 

ডেস্ক নিউজঃ সিলেট পশ্চিম সদরের মোগলগাঁও ইউনিয়নের মিরেরগাওয়ের বাসিন্দা ঝর্ণা বেগম তৃতীয়বারের মতো সন্তান জন্মদানের জন্য ভর্তি হন ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আজ সোমবার (১৭ মে) সকালে সন্তান জন্মদানের প্রস্তুতি হিসেবে সিলেট নগরীর পপুলার মেডিক্যাল সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাম করান তিনি। সেখানে আলট্রাসনোগ্রামের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক মৌখিকভাবে বলেন ঝর্ণা জমজ সন্তানসম্ভবা। দুপুর বারোটার দিকে প্রদান করা রিপোর্টেও উল্লেখ করা হয় গর্ভে দুটি শিশু। জমজ সন্তানের মা হতে চলেছেন ঝর্ণা।

পপুলারের রিপোর্টের ভিত্তিতে ওসমানী হাসপাতাল থেকে ঝর্ণাকে ভর্তি করা হয় আল রাইয়ান হাসপাতালে। অথচ সোমবার দুপুর দুইটায় সিজারের পর মায়ের কোলে দেয়া হয়েছে একটি শিশু। এ নিয়ে বিড়ম্বনা তৈরি হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি আলট্রাসনোগ্রাম রির্পোটটি ভুল। আর পপুলার মেডিক্যাল সেন্টারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এরকম রিপোর্ট ভুল আসাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

ঝর্ণা বেগমের দেবর নাজির উদ্দিন সিলেটভিউকে জানান, তার ভাবি প্রসব ব্যথা নিয়ে সোমবার সকালে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান থেকে আলট্রাসনোগ্রামের জন্য পপুলার মেডিক্যালে আসলে চিকিৎসক জানান ঝর্ণার গর্ভে দুটি শিশু রয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টেও সেটি উল্লেখ ছিল। কিন্তু সোমবার রাতে আল রাইয়ান হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে একটি শিশু পাওয়া যায়। এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, পপুলারের রিপোর্ট ভুল। অস্ত্রোপচারের সময় গর্ভে একটি শিশুই ছিল।

নাজির উদ্দিন আরও জানান, রিপোর্টটি নিয়ে তারা দ্রুত পপুলার মেডিক্যালে যান। সেখানে যাওয়ার পর দায়িত্বশীলরা এ ব্যাপারে কোন দুঃখপ্রকাশ করেননি। তারা জানান, এরকম ভুল হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

তিনি সিলেটভিউকে বলেন, এর আগে দুই বার তার ভাবি স্বাভাবিক প্রসবে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। পপুলারের রিপোর্ট দেখে তারা তড়িঘড়ি করে ঝর্ণা বেগমকে নিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হন। সিজারের মাধ্যমে সন্তান নেয় একটি। এতে ঝর্ণা বেগম শারীরিক এবং তাদের পরিবার আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। একইসাথে তারা পপুলার মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তারা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি চেয়েছেন।

এ ব্যাপারে সিলেট নগরীর পপুলার মেডিক্যাল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শায়েক আজিজ চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে, তাতে সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।

পপুলার মেডিক্যাল সেন্টারের ব্যবস্থাপক চন্দন আচার্য্যের বক্তব্য নিতে গেলে তিনি ভাত খাচ্ছেন বলে প্রতিবেদকের ফোন কেটে দেন। পরে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *